Articles

সালাতের আহকাম ও পদ্ধতি





أحكام الصلاة وصفتها





< بنغالي- Bengal - বাঙালি>





গবেষণা পরিষদ, আল-মুনতাদা আল-ইসলামী





اللجنة العلمية بالمنتدى الإسلامي





—™





অনুবাদক: জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের





সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী





ترجمة: ذاكر الله أبو الخير





مراجعة: د/ محمد منظور إلهي





সালাতের আহকাম ও পদ্ধতি-১





আল-হামদুলিল্লাহ ওয়াসসলাতু ওয়াসসালামু 'আলা রাসূলিল্লাহ.....





সালাতের শর্তাবলি





সালাতের শর্ত নয়টি। যথা:





এক. মুসলিম হওয়া:





সালাত ছাড়াও অন্যান্য যে কোনো ইবাদতের ক্ষেত্রেই মুসলিম হওয়া পূর্বশর্ত। মুসলিম বলতে উদ্দেশ্য হল, যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব হিসেবে বিশ্বাস করে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তা'আলার রাসূল বলে স্বীকৃতি প্রদান করে। আর ইসলামকে একমাত্র দীন বলে মনে-প্রাণে গ্রহণ করে। অবিশ্বাসীর যাবতীয় ইবাদত প্রত্যাখ্যাত। অবিশ্বাসীদের কোনো ইবাদতই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়, যদিও তারা জমিনভর স্বর্ণ কল্যাণকর কাজে ব্যয় করে।





আল্লাহ তা'আলা বলেন,





﴿وَقَدِمۡنَآ إِلَىٰ مَا عَمِلُواْ مِنۡ عَمَلٖ فَجَعَلۡنَٰهُ هَبَآءٗ مَّنثُورًا ٢٣﴾ [الفرقان: ٢٢]





“আমরা তাদের কৃতকর্মগুলো বিবেচনা করবো, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধুলি-কণায় পরিণত করবো।" [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ২৩]





দুই. বুঝার বয়সে উপনীত হওয়া:





বুঝার মতো বয়সে উপনীত হওয়া হলো শরীয়তের বিধানাবলী উপলব্ধি ও গ্রহণ করার একমাত্র উপায়। জ্ঞানহীন ব্যক্তির ওপর শরী'আতের কোনো বিধানই ওয়াজিব নয়।





রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,





«رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ: عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ، وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَحْتَلِمَ، وَعَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَعْقِلَ»





“তিন ব্যক্তি দায়মুক্ত, তাদের কোনো গুনাহ লিখা হয় না। ক. ঘুমন্ত ব্যক্তি ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া পর্যন্ত। খ. ছোট বাচ্চা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। খ. পাগল সুস্থ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত।"[1]





তিন. ভালো মন্দের বিচার করা:





ভালো মন্দ বিচারের উপযুক্ত বয়সে উপনীত হওয়া। অবুঝ বা ছোট শিশু, যে নিজের জন্য কোনোরূপ ভালো-মন্দ চি‎‎হ্নত করতে সক্ষম নয়, তার ওপর সালাত ওয়াজিব নয়। শিশু যখন ভালো মন্দের পার্থক্য করতে পারে এবং সুন্দর ও অসুন্দর চিনতে পারে, তখন বুঝতে হবে যে, সে বিচার বিশ্লে­ষণ বা তাময়ীয করার মতো বয়সে পৌঁছে গেছে। সাধারণত সাত বছর বয়সে বাচ্চারা ভালো-মন্দ বুঝতে পারে।





রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,





«مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ، وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا، وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرٍ وَفَرِّقُوا بَيْنَهُمْ فِي الْمَضَاجِعِ»





“তোমরা সাত বছর বয়সে তোমাদের বাচ্চাদের সালাতের আদেশ দাও। আর সালাত না পড়লে দশ বছর বয়সে তাদের হালকা মার-ধর কর। আর তাদের বিছানা আলাদা করে দাও।"[2]





চার. পবিত্রতা :





নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী অযু দ্বারা পবিত্রতা অর্জন হয়।





আল্লাহ তা'আলা বলেন,





﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا قُمۡتُمۡ إِلَى ٱلصَّلَوٰةِ فَٱغۡسِلُواْ وُجُوهَكُمۡ وَأَيۡدِيَكُمۡ إِلَى ٱلۡمَرَافِقِ وَٱمۡسَحُواْ بِرُءُوسِكُمۡ وَأَرۡجُلَكُمۡ إِلَى ٱلۡكَعۡبَيۡنِۚ﴾ [المائدة: ٦]





“হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতের ইচ্ছা করো তখন তোমাদের মুখমন্ডল ধৌত কর এবং হাতগুলোকে কনুইসহ ধুয়ে নাও। আর মাথা মাসেহ কর এবং পাগুলোকে টাখনুসহ ধুয়ে ফেল।" [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৬]





পাঁচ. না-পাকী দূর করা:





তিনটি স্থান হতে সালাতের পূর্বে না-পাকী দূর করতে হবে।





ক) শরীর পাক হতে হবে।





খ) পোশাক পাক হতে হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,





﴿وَثِيَابَكَ فَطَهِّرۡ ٤﴾ [المدثر: ٤]





“তুমি তোমার কাপড় পাক কর।" [সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ৪]





গ) সালাতের স্থান পাক হতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,





«إِنَّ هَذِهِ الْمَسَاجِدَ لَا تَصْلُحُ لِشَيْءٍ مِنْ هَذَا الْبَوْلِ، وَلَا الْقَذَرِ»





“নিশ্চয় মসজিদ গুলোতে পেশাব পায়খানা করা কোনো ক্রমেই সঙ্গত নয়।"[3]





ছয়. সতর ঢাকা:





পুরুষের সতর নাভি হতে হাটুর নীচ পর্যন্ত।





আর মেয়েদের ক্ষেত্রে শুধু চেহারা ও দু-হাতের কবজি ছাড়া সবই সতর। তবে অপরিচিত লোকের সামনে পড়লে চেহারা ও হাতের কবজিও ঢেকে রাখতে হবে।





আল্লাহ তা'আলা বলেন,





﴿ يَٰبَنِيٓ ءَادَمَ خُذُواْ زِينَتَكُمۡ عِندَ كُلِّ مَسۡجِدٖ ﴾ [الاعراف: ٣١]





“হে আদম সন্তান! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পরিচ্ছেদ পরিধন কর।" [সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: 31]





সাত. সময় হওয়া:





দিবারাত্রের মধ্যে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময় নির্ধারিত আছে। এবং সময়ের শুরু আছে এবং শেষও আছে।





সময়ের বিস্তারিত আলোচনা নিম্নরূপ:





ফযরের সালাতের সময়: সুবহে সাদেক হতে সূর্যোদয় পর্যন্ত।





যোহরের ওয়াক্ত: সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলা থেকে আরম্ভ করে প্রতিটি বস্তুর ছায়া একগুণ হওয়া পর্যন্ত।





আছরের সালাতের সময়: প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ তথা একগুণ হওয়া থেকে আরম্ভ করে দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত।





মাগরিবের সময়: সূর্যাস্ত থেকে আরম্ভ করে পশ্চিম আকাশের লালিমা অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত।





ইশার সালাতের সময়: লালিমা অদৃশ্য হওয়ার পর অর্ধরাত্রি পর্যন্ত।





ওয়াক্ত শর্ত হওয়ার প্রমাণ, আল্লাহ তা'আলা বলেন,





﴿إِنَّ ٱلصَّلَوٰةَ كَانَتۡ عَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ كِتَٰبٗا مَّوۡقُوتٗا ١٠٣﴾ [النساء: ١٠٣]





“নিশ্চয় সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত।" [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১০৩]





রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করার প্রমাণ: হাদীসে এসেছে, জিবরীল আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রথম দিন সালাত আদায় করা শেখান প্রত্যেক সালাতের শুরু ওয়াক্তে, আর পরের দিন সালাত আদায় করা শেখান প্রত্যেক সালাতের শেষ ওয়াক্তে। অতঃপর বলেন,





«يَا مُحَمَّدُ، هَذَا وَقْتُ الْأَنْبِيَاءِ مِنْ قَبْلِكَ، وَالْوَقْتُ مَا بَيْنَ هَذَيْنِ الْوَقْتَيْنِ»





“হে মুহাম্মাদ! এটি তোমার পূর্ববর্তী নবীদের ওয়াক্ত। এ সময়দ্বয়ের মধ্যবর্তী সময়ই হলো সালাতের সময়।"[4]





আট. কিবলামুখী হওয়া:





কিবলা বা কা'বা শরীফকে সামনে রাখার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা সালাত আদায়কারীর ওপর ওয়াজিব। কা'বা শরীফ যদি সরাসরি সামনে হয় তবে তাকে অবশ্যই পুরো শরীর দ্বারা কিবলামুখী হতে হবে। আর যদি দূরে হয়, তবে কিবলার দিককে সামনে রাখা তার ওপর ওয়াজিব। বিভিন্নভাবেই কিবলা চেনা যেতে পারে।





v সূর্য উদয় হওয়ার দিক।





v রাত্রের বেলা সূর্য অস্ত যাওয়ার দিক। রাত্রে ধ্রুবতারা দ্বারা, মসজিদের মেহরাব, কম্পাস দ্বারা অথবা কাউকে জিজ্ঞাসা করার দ্বারা। কিবলা নির্ধারণের চেষ্টা করা সালাত আদায়কারীর ওপর ওয়াজিব।





আল্লাহ তা'আলা বলেন,





﴿قَدۡ نَرَىٰ تَقَلُّبَ وَجۡهِكَ فِي ٱلسَّمَآءِۖ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبۡلَةٗ تَرۡضَىٰهَاۚ فَوَلِّ وَجۡهَكَ شَطۡرَ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِۚ وَحَيۡثُ مَا كُنتُمۡ فَوَلُّواْ وُجُوهَكُمۡ شَطۡرَهُۥ﴾ [البقرة: ١٤٤]





“নিশ্চয় আমি আকাশের দিকে তোমার মুখমণ্ডল উত্তোলন অবলোকন করছি। তাই আমি তোমাকে ঐ কিবলামুখীই করবো যা তুমি কামনা করছো। অতএব, তুমি মাসজিদুল হারামের দিকে তোমার মুখমণ্ডল ফিরিয়ে নাও এবং তোমরা যেখানেই আছ তোমাদের মুখ সে দিকেই প্রত্যাবর্তিত কর।" [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৪৪]





নয়. নিয়ত:





নিয়ত হল, কোনো কাজ করার উদ্দেশ্যে দৃঢ় প্রত্যয়ী হওয়া, মুখে কোনো কথা না বলা। ফরয সালাত আদায়ের ইচ্ছা করলে তার মন ও অন্তর উপস্থিত থাকবে।





রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,





«إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى ...»





“বান্দার সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক মানুষ তার নিয়ত অনুসারেই তার বিনিময় পাবে।"[5]





সালাতের বিধানাবলী





আল্লাহ তা'আলা কুরআনে করীমে সালাতের আদেশ দিলেও এর পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন নি। তবে হাদীসে এর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।





আল্লাহ তা'আলা বলেন,





﴿ وَأَنزَلۡنَآ إِلَيۡكَ ٱلذِّكۡرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيۡهِمۡ ﴾ [النحل: ٤٤]





“আর তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছি যাতে তুমি মানুষকে বুঝিয়ে দাও যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে।" [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৪৪]





আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,





«َصَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي»





“তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছো ঠিক সেভাবে সালাত আদায় করো।"[6]





একজন মুসলিম যখন সালাতে দাঁড়ায় তখন তার অন্তরে এমন একটি অনুভূতি থাকা উচিৎ যে, সে এখন মহান আল্ল­হর সম্মুখে দণ্ডায়মান, তিনি তার চোখের ইশারা অন্তরের অন্তস্থলের বিরাজমান সব কিছুই জানেন। মনের চিন্তা চেতনা আকুতি-মিনতি সবই তার জ্ঞাত। যদি মানুষের মধ্যে এ ধরনের অনুভূতি জাগ্রত থাকে তবেই তার অন্তর সালাতে একমাত্র আল্লাহর দিকেই নিমগ্ন থাকবে। যেমনিভাবে তার দেহ-শরীর কিবলার দিকে থাকে অনুরূপভাবে তার মনও কিবলামুখী থাকবে। একজন সালাত আদায়কারীর কর্তব্য হল, যখনই সে সালাতে দাঁড়াবে, তাকে বিশ্বাস করতে হবে যে, সে এখন আল্লাহর সম্মুখে উপস্থিত, আর যখন সালাত আরম্ভ করে তখন বিশ্বাস করবে যে, এখন সে আল্লাহর সাথেই কথোপকথন করছে।





রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,





«إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ، فَإِنَّهُ يُنَاجِي رَبَّهُ»





“যখন তোমাদের কেউ সালাতে দাঁড়ায় তখন সে আল্লাহর সাথেই নিভৃতে আলাপ করে।"[7]





অতঃপর সালাতে যখন বলে, 'আল্লাহু আকবর' তখন সে বিশ্বাস করে যে আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ, তার ওপর আর কেউ শেষ্ঠ নেই।





আর জাগতিক সবকিছুই সালাত আদায়কারীর নিকট তুচ্ছ। কারণ, সে দুনিয়াকে পশ্চাতে ফেলে সালাতে নিমগ্ন হয়। তাকবীর বলার সাথে সাথে দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠায়, ডান হাতকে বাম হাতের বাহুর ওপর রাখে, মাথাকে অবনত করে, উপরের দিকে চক্ষু উঠায় না এবং ডানে বামে তাকায় না। অতঃপর সে সালাত শুরুর দো'আ পড়বে,





«سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، تَبَارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُّكَ، وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ»





“সমস্ত মর্যাদা ও গৌরব আপনারই হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা কেবল আপনারই জন্য, আপনার নামেই সমস্ত বরকত ও কল্যাণ এবং আপনার মর্যাদা অতি উচ্চে। আর আপনি ব্যতীত সত্যিকার কোনো মা'বুদ নেই।"[8]





এছাড়া ও আরো যেসব দো'আ বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, তাও পাঠ করা যেতে পারে।





তারপর (أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ) ও (بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ ) পড়বে।





তারপর সূরা আল-ফাতিহা পড়বে আর সূরা আল-ফাতিহার অর্থের মধ্যে গভীরভাবে চিন্তা করবে।





হাদীসে কুদসীতে বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমি সালাতকে আমার ও বান্দার মাঝে দুই ভাগে ভাগ করেছি; অর্ধেক আমার জন্য, আর অর্ধেক আমার বান্দার। আর বান্দা আমার নিকট যা চায় তাই সে পায়। যখন সে বলে, (ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ) 'আলহামদু লিল্লাহি রব্বি 'আলামীন' তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে'। আর যখন বলে (ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ) 'আররাহমানির রাহীম' তখন আল্লাহ বলেন, 'আমার বান্দা আমার গুনগান করেছে'। আর যখন বলে (مَٰلِكِ يَوۡمِ ٱلدِّينِ) 'মালিকি ইয়াও মিদ্দীন' তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'আমার বান্দা আমার মাহত্ব ঘোষণা করেছে'। আর যখন বলে (إِيَّاكَ نَعۡبُدُ وَإِيَّاكَ نَسۡتَعِينُ) 'ইয়্যাকানা'বুদু ওয়াইয়্যাকানাসতাঈ'ন' তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন, এটি আমার এবং আমার বান্দার মাঝে সীমাবদ্ধ। আর বান্দা লাভ করে যা সে প্রার্থনা করে। আবার যখন সে বলে ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ ...)) 'ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকীম ...' তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন, এ শুধু আমার বান্দার এবং সে লাভ করে যা সে প্রার্থনা করে।"[9]





আর সূরা ফাতিহা শেষ করে সে آمِيْن)) বলবে অর্থাৎ, 'হে আল্লাহ! আপনি আমার দো'আ কবুল করুন'।





সূরা ফাতিহা শেষ করার পর কুরআনের যে কোনো অংশ থেকে সহজ কয়েকটি আয়াত তিলাওয়াত করবে। তারপর দু'হাত তুলে আল্লাহ আকবর বলে রুকু করবে। রুকুতে দু'হাত হাঁটুর ওপর রাখবে। আঙ্গুলগুলো খোলা থাকবে আর দুই বাহুকে দুই পার্শ্ব থেকে দূরে রাখবে। মাথা ও পিঠ সমান রাখবে, বাঁকা করবেনা। রুকুতে গিয়ে কমপক্ষে তিনবার (سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمِ) 'সুবাহানা রব্বিয়াল আযীম' বলবে এবং বেশি বেশি করে আল্লাহর মাহত্ব বর্ণনা করবে। যেমন সাজদায় গিয়ে বলবে,





«سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي»





“সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়া বিহামদিকা, আল্লাহুম্মাগফিরলী।" অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আমাদের প্রভু তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি, তোমার প্রশংসা সহকারে, হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা কর।"[10]





অতঃপর 'আল্লাহু আকবর' বলে মাথা উঁচু করবে এবং দু'হাত কাঁধ পর্যন্ত অথবা দু কানের লতী পর্যন্ত উঠাবে, ডান হাত বাম হাতের বাহুর ওপর রাখবে এবং বলবে, (رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ) অথবা (رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ) অথবা (اللهم رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ) উল্লিখিত দো'আগুলো এক এক সময় এক একটি করে পড়া উত্তম। আর যদি সালাত আদায়কারী মুক্তাদি হয় তবে তাকে (سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ) বলতে হবে না, বরং সে উঠার সময় শুধু উল্লিখিত দো'আগুলো পড়বে। এছাড়া সে এ দো'আও পড়তে পারে (رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ)





তারপর সাজদায় যাওয়ার জন্য তাকবীর বলবে। সাজদায় যাওয়ার সময় দুই হাত উঠানোর কোনো প্রয়োজন নেই। সাজদায় যাওয়ার সময় হাত উঠানো বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। প্রথমে দুই হাঁটু জমিনে রাখবে তারপর দুই হাত তারপর কপাল তারপর নাক। মোটকথা, সাতটি অঙ্গের ওপর সাজদা করবে কপাল নাক দুই ক্ববজি দুই হাঁটু দুই পায়ের আঙ্গুলি। আর বাহুদ্বয়কে খাড়া করে রাখবে, মাটির সাথে মেশাবে না এবং হাঁটুর ওপরেও রাখবে না, আর দুই বাহুকে দুই পার্শ্ব হতে এবং পেটকে দুই উরু হতে আলাদা রাখবে। পিঠ উঁচু করে রাখবে, বিছিয়ে দিবে না। সাজদারত অবস্থায় তিনবার বলবে, (سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى) এবং (سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ)বলারও বিধান রয়েছে।[11]





আর সাজদায় বেশি বেশি করে আল্লাহর নিকট র্প্রাথনা করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন,





«أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ، وَهُوَ سَاجِدٌ، فَأَكْثِرُوا الدُّعَاءَ»





“বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নৈকট্য লাভ করে যখন সে সাজদারত থাকে। সুতরাং তোমরা সাজদারত অবস্থায় বেশি বেশি প্রার্থনা কর।"[12]





কিন্তু মুক্তাদির জন্য দীর্ঘ দো'আ করার অযুহাতে ইমামের চেয়ে বেশি দেরী করা; কোনো ক্রমেই তা ঠিক নয়। কারণ, ইমামের অনুকরণ করা ওয়াজিব ও অধিক গুরুত্বর্পূণ বিষয়। তারপর তাকবীর বলে সাজদা হতে উঠবে এবং দুই সাজদার মাঝে 'মুফতারেশ' বসবে।





এর নিয়ম হল, বাম পা বিছিয়ে দিবে আর ডান পা ডান পার্শ্বে খাড়া করে রাখবে। আর দুই হাতের মধ্যে ডান হাত ডান উরুর উপর অথবা হাঁটুর মাথায় এবং বাম হাত বাম উরুর উপর অথবা হাঁটুকে মুষ্টি করে আঁকড়ে ধরবে। ডান হাতের কনিষ্ট, অনামিকা ও মধ্যমা অঙ্গুলীগুলো মিলিয়ে রাখবে। তর্জণী খোলা রাখবে শুধু দো'আর সময় নড়াচড়া করতে থাকবে। যেমন, رَبِّ اغْفِرْلِيْ বলার সময় উঠাবে এবং وَارْحَمْنِيْ বলার সময় উঠাবে। দুই সাজদার মাঝে বসা অবস্থায় এ দো'আ পড়বে,





«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَعَافِنِي وَارَزُقْنِي وَاهْدِنِي، وَاجْبُرْنِيْ»





''আল্লাহুম্মাগফির্লী ওয়ার্হামনী ওয়া আফিনী ওয়ারযুকনী ওয়াহদিনী ওয়াজবুরনী''। অর্থাৎ ''হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, দয়া করুন, নিরাপদে রাখুন, জীবিকা দান করুন, সরল পথ দেখান, শুদ্ধ করুন।"[13]





প্রথম রাকাতে যা যা করেছে দ্বিতীয় রাকাতেও তাই করবে। তবে দ্বিতীয় রাকাতে دُعَاءُ الْاسْتِفْتَاحِ পড়তে হবে না। দ্বিতীয় রাকাত আদায় করা শেষ হলে তাশাহুদ পড়ার জন্য দুই সাজদার মাঝে যেভাবে দুই হাত ও পা রেখেছিল ঠিক একইভাবে হাত পা রেখে বসবে। তার পর তাশাহুদ পড়বে





«التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ»





“যাবতীয ইবাদত ও অর্চনা মৌখিক শারীরিক ও আর্থিক সমস্তই আল্লাহর জন্য হে নবী আপনার ওপর আল্লাহর শান্তি রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হোক আমাদের ওপর এবং নেক বান্দাদের ওপর শান্তি অবতীর্ণ হোক আমি সাক্ষ্য দিচ্ছ যে আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোনো মাবুদ নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।"[14]





আর যদি সালাত তিন রাকাত অথবা চার রাকাত বিশিষ্ট হয় তা'হলে তাশাহুদ পড়ার পর তাকবীরে তাহরীমের সময় যেভাবে হাত ইঠায় সে ভাবে হাত উঠিয়ে দাঁড়িয়ে যাবে এবং বাকী সালাত আদায় করবে। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাকাতে শুধু সূরা আল-ফাতিহা পড়বে।





 



Recent Posts

Гиряву нолаву фиғон б ...

Гиряву нолаву фиғон бар мурдагон

Силсилаи шиъа ва арко ...

Силсилаи шиъа ва аркони Имон (1)

Ҷазои касе ки Худован ...

Ҷазои касе ки Худовандро дашном медиҳад